লোহা ও পবিত্র কুরআন।


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ



লোহা পবিত্র কুরআন ।। ম্যাথমেটিক্যাল ; পবিত্র কুরআনের সাক্ষ্য



লোহা একটি মৌলিক পদার্থ যার পারমাণবিক সংখ্যা ২৬ এবং রাসায়নিক সংকেত Fe
যার পারমানবিক সংখ্যা ভর যথাক্রমে ২৬ ৫৫.৮৫  ̴ ৫৬ কোন মৌলের পারমানবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তন হলে মৌলটি পরিবর্তন হয়ে যায় যেমন পারমানবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা যদি হয় তাহলে মৌলদ্বয় যথাক্রমে হলো নাইট্রোজেন (N2) অক্সিজেন (O2)




পবিত্র কুরআনে ধাতু নিয়ে সূরার নাম আছে মাত্র একটি আর তা হলো হাদীদ বা লোহা  লোহার এটমিক নাম্বার বা পারমাণবিক সংখ্যা ২৬ আর পারমানবিক ভর ৫৬



) ‘হাদিদ(حديد) শব্দটির সংখ্যাগত মানও হল ২৬ ( হা =, দাল =, ইয়া =১০, দাল =)

) শুরু থেকে পবিত্র কুরআন এর সূরা গণনা করলে পাই এটির ক্রমিক সংখ্যা ২৬ যা লোহার পারমানবিক সংখ্যার সাথে মিলে যায়

) যখন আমরা বিসমিল্লাহ  (শুরুর আয়াত) কে আয়াত ধরি, কারন পবিত্র কুরআন পড়তে বিসমিল্লাহ  আয়াত দিয়ে শুরু করতে হয় তখন যে আয়াতেলোহাকে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করা হয়েছে তা ২৬ তম আয়াতে উপনীত হয় যেহেতু কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা সমান পরমাণুর প্রোটন ইলেকট্রন সংখ্যা তাই লোহার পারমাণবিক সংখ্যা ২৬ হওয়ায় লোহা পরমাণুর অভ্যন্তরে ২৬টি প্রোটন ২৬টি ইলেকট্রন আছে

) আবার হাদীদ সূরায় মোট আয়াত আছে ২৯ টি কিন্তু বিসমিল্লাহ  আয়াত দ্বারা শুরু করলে মোট হয় ৩০ টি আয়াত আমরা জানি, লোহা পরমাণুর নিঊক্লিয়াসে অবস্থিত নিউট্রন সংখ্যা ৩০ ইতিমধ্যে আমরা কুরআনের দেয়া তথ্য হতে জানতে পেরেছি লোহার প্রোটন সংখ্যা = ২৬ নিউট্রন সংখ্যা = ৩০, এবার এবার কুরআনের দেয়া তথ্য হতে ভরসংখ্যা বের করা যাক
আমরা জানি, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা অতএব লোহার ভরসংখ্যা = ২৬+৩০ = ৫৬, আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানও বলছে লোহার ভরসংখ্যা=৫৫.৮৫ বা ৫৬কি আশ্চর্যের বিষয়!

) আবার সূরার নাম (الحديد) এর সংখ্যাগত মান ৫৭ যা পবিত্র কুরআনের ৫৭ তম সূরা

) প্রকৃতিতে যে কোন মৌলের পারমানবিক বিভিন্ন হয়ে থাকে একে বলে আইসোটোপ লোহার বা Fe এর আইসোটোপ  মধ্যে পারমানবিক ভর ৫৬ প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশী আছে যার পরিমান ৯১%  আর বাকী % অন্যান্য আইসোটোপ আবার লোহার আইসোটোপের মধ্যে Fe-57 সূরার নাম (الحديد) এর সংখ্যাগত মান এর সাথে মিলে যায়



) আবার সূরার শেষ দিক থেকে গনণা করলে সূরার হাদীদ এর ক্রমিক সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮ যেটিও লোহার একটি আইসোটোপ

) আবার সূরার ক্রমিক নং ৫৭ আর মোট আয়াত ২৯ টি তাহলে গুন করে পাই ৫৭ x ২৯ =১৬৫৩ আবার ++++ ………+৫৭ =১৬৫৩ এটি অবার মোট ১১৪ টি সূরার অর্ধেক ক্রমিক নং (১১৪/ =৫৭) আর এটিই একমাত্র সূরা যার ক্রমিক সংখ্যাকে আয়াত দ্বারা গুন করলে আবার ক্রমিক থেকে ৫৭ যোগ করলে সমান ফলাফল পাওয়া যায় !

লোহার খনি


আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বেই মহান স্রষ্টা স্বীয় অনুগ্রহে তার সৃষ্টিকুলকে শুধু পরমাণু সম্পর্কেই অবহিত করেননি বরং এর অভ্যন্তরে অবস্থিত অতিসূক্ষ্ম কণিকাগুলো সম্পর্কেও  অবহিত করেছেন কিন্তু মানবকুলের বড় দুর্ভাগ্য তারা কুরআন কে যথাযত মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৪০০ বছর পূর্বে পরিবেশিত এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মাত্র কিছুদিন পূর্বে আবিস্কার করেছে

মহান আল্লাহ্ বলেন :

৫৭:২৫ আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার এটা জন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী






সম্পাদনায়:
মোহাম্মদ মুদ্দাচ্ছির ইসলাম পাটওয়ারী
B.Sc in Environmental Science ( NSTU )
M.Sc in WRD (BUET) [On-going]



Comments

Popular posts from this blog

শনিবার ও ইহুদী জাতি ।

সূরা আল-হাজ্জ।

পৃথিবীর জল ও স্থল ভাগের অনুপাত।

দুনিয়া ও আখেরাত শব্দ ।