পৃথিবীর জল ও স্থল ভাগের অনুপাত।


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

পৃথিবীর জল ও স্থল ভাগের অনুপাত ।। ম্যাথমেটিক্যাল ; পবিত্র কুরআনের সাক্ষ্য

মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেন : অচিরেই আমি দিগন্ত বলয়ে আমার ( কুদরতের ) নির্দেশসমূহ প্রদর্শন করবো এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও ( তা আমি দেখিয়ে দিব ), যতোক্ষণ পর্যন্ত তাদের উপর এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে , ( কুরআনই মূলত ) সত্য ; ( হে নবী , তোমার জন্য ) একথা কি যথেষ্ট নয় , তোমার রব ( তোমার ) সবকিছু সম্পর্কে অবহিত  ( সূরা ৪১:৫৩ )

আমরা জানি পৃথিবীতে প্রায়    ভাগ স্থল ভাগ আর  ভাগ হচ্ছে জল , কিন্তু সঠিক ভাবে বললে তার পরিমান হচ্ছে ২৯% স্থল ৭১% জল তাহলে যে পবিত্র কুরআন প্রায় ১৪৫০ বছর আগে নাযিল হয়েছিল তাতে সমন্ধে কি সংকেত দেওয়া আছে ?
আসলে যিনি যা সৃষ্টি করেছেন তিনি ছাড়া আর কে সেই সমন্ধে ভাল জানে ?


সমুদ্রকে আরবীতে বলে বাহার (بحر) যা পবিত্র কুরআনে একবচন হিসেবে একবারে ৩২ বার এসেছে তা হচ্ছে  2:50; 2:164 ; 5:96; 6:59; 6:63; 6:97; 7:138; 7:163; 10:22; 10:90; 14:32; 16:14; 17:66; 17:67; 17:70;18:61; 18:63; 18:79; 18:109 (2); 22:65; 24:40; 26:63; 27:63; 30:41; 31:27; 31:31; 42:32; 44:24; 45:12; 52:6; 55:24.

আর ভূমিকে আরবীতে মূল শব্দ হিসেবে বলে বার (بر ) যা পবিত্র কুরআনে ভূমি অর্থে ঠিক ১৩ বার ব্যবহার হয়েছে   5:96 ; 6:59 ; 6:63 ; 6:97 ; 10:22 ; 17:67 ; 17:68 ; 17:70; 20:77 *;  27:63 ; 29:65 ; 30:41 ; 31:32  

মানচিত্র



ক্যালকুলেশন / হিসাব : ধাপ নং ০১

তাহলে নতুন করে দাঁড়ায় ; ১৩ টি শব্দ হচ্ছে ভূমির সাথে সম্পর্কিত আর ৩২ শব্দ হচ্ছে দরিয়া সম্পর্কিত

তাহলে ১৩ + ৩২ = ৪৫ ( ১০০% )
            স্থল পরিমান :(১৩/৪৫  % = ২৮.৮৮৮%
            জল ভাগের পরিমান : (৩২/৪৫)   % = ৭১.১১১%

তাহলে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর মোট অংশের গড়ে ৭১ শতাংশ জল ভাগ এবং ২৯ শতাংশ স্থল ভাগ বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন  wikipedia

এবার আসি আরবী জিমাট্রিক ভেলু (Gematria ) এখানে বিভিন্ন বর্ণের বিভিন্ন মান থাকে যা নিম্নে দেওয়া হলো : ধাপ নং০২

البر    ( ভূমি ) এর ক্ষেত্রে  জিমাট্রিক ভেলু (Gematria ) হচ্ছে ا = ০১ , ل = ৩০ , ب =০২ , ر = ২০০ তাহলে মোট যোগফল ( ০১ + ৩০ + ০২ + ০৮ + ২০০ ) = ২৩৩



:৯৬ (البر =২৩৩); :৫৯ (البر =২৩৩); :৬৩ (البر =২৩৩); :৯৭ (البر =২৩৩); ১০:২২ (البر =২৩৩); ১৭:৬৭ (البر =২৩৩); ১৭:৬৮ (البر =২৩৩); ১৭:৭০ (البر =২৩৩); ২০:৭৭ (البحر يبسا =৩১৪)  ;২০:৬৩ (البر =২৩৩); ২৯:৬৫ (البر =২৩৩); ৩০:৪১ (البر =২৩৩); ৩১:৩২ (البر =২৩৩);
তাহলে মোট যোগফল ২৩৩+ ২৩৩+ ২৩৩+ ২৩৩+ ২৩৩+ ২৩৩+ ২৩৩+ ২৩৩+৩১৪+ ২৩৩+ ২৩৩+ ২৩৩+ ২৩৩=৩১১০

এবার সমুদ্রের ক্ষেত্রে البحر  জিমাট্রিক ভেলু (Gematria )  হচ্ছে  ( ০১ + ৩০ + ০২ + ০৮ + ২০০ ) = ২৪১

এক্ষেত্রে মোট শব্দ উল্লেখ আছে ৩২ বার তার মধ্যে ৩১ টির মান সমান ( ২৪১*৩১=৭৪৭১ ) আর ২৪:৪০ আয়াতের মধ্যে  بحر এর মান ২১০ কারন শব্দে আলিফ লাম নেই তাহলে ৩১ বাদ যাবে থাকে মান থাকে = ২১০
মোট যোগফল = ৭৪৭১+২১০ = ৭৬৮১
البر   (ভূমি/ স্থল) البحر  (সাগর / দরিয়া /জল) এর জিমাট্রিক ভেলু (Gematria ) মোট যোগফল ৩১১০ + ৭৬৮১ = ১০৭৯১



বিশেষ দৃষ্টি :


·          আধুনিক বিজ্ঞান যদিও এক শতাব্দী পূর্বে আবিষ্কার করেছে কিন্তু পবিত্র আল-কুরআন  প্রায় ১৪৫০ বছর পূর্বে তা দুই ভাবে প্রমান করে দেখিয়ে দিয়েছেন
             ) শব্দ ভিত্তিক
·        মহান আল্লাহ্ ছাড়া কে আছে যে, পবিত্রকুরআনে রাসূল (সাঃ) কে জানিয়ে দিবে ?
·        তবে শুধু যে ভূমি জলের অনুপাত গানিতিক আকারে দেওয়া আছে তা নয় এরকম বহু অলৌকিক দেওয়া
             আছে  যা গানিতিক ভাবে মিলে যায়



বিশেষ বিবেচনা: ধাপ ০৩

এবার পৃষ্ঠা নং ০২ চলে যাই ;ভূমি গননার ক্ষেত্রে (بر ) শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম কিন্তু 20:77 * আয়াতে (بر ) শব্দ নেই , আছে (البحر يبسا ) , যার অর্থ শুষ্ক সমুদ্র ফলে শুষ্ক সমুদ্রকে স্থল/ভূমি ধরলে আসে ১৩ টি শব্দ যদি (البحر يبسا ) কে বাদ দিয়ে সাগরের সাথে যুক্ত করি তাহলে সাগর/দরিয়া শব্দটি আসে মোট ৩৩ বার আর ভূমি শব্দটি আসে ১২ বার
তাহলে ক্যালকুলেশন করি :

            মোট শব্দ ৩৩ + ১২ = ৪৫
            স্থলের পরিমান =  = ২৬.৬৬৬৬৬৬%
            জলের পরিমান =  = ৭৩.৩৩৩৩৩%

তাহলে পূর্বের ক্যালকুলেশনের সাথে বিয়োগ দিলে আসে :
            স্থলের পরিমান = (২৬.৬৬৬ - ২৮.৮৮৮) = - . %
            জলের পরিমান = (৭৩.৩৩৩৭১.১১১) =  . %

তাহলে দেখা যাচ্ছে স্থল-ভাগ প্রায় .% হারিয়ে গেছে আবার জলভাগ .% যোগ হয়েছে তাহলে কিভাবে আবার জল ভাগ হারিয়ে যায় !!
ব্যাখ্যা হচ্ছে আমরা যদি পৃথিবীর মানচিত্র দেখি তাহলে দেখব রশিয়ার মধ্য-অঞ্চলে একটা বিশাল এলাকা দখল করে আছে পশ্চিম সাইবেরিয়া  আরো মনোযোগ দিলে দেখব যেখানে জনমানব আছে কিন্তু পরিবেশ টা হচ্ছে wetland or submerge area সোজা বাংলায় হচ্ছে ডোবা / নিমজ্জিত এলাকা / অগভীর জলাশয় ! সাথে পৃথিবীতে আরো এমন এলাকা আছে এরকম চরিত্রের সাথে মিল

পশ্চিম সাইবেরিয়া ।
তাহলে দেখা যাচ্ছে কুরআন  একই শব্দ দুই অর্থে ব্যবহার করেছে যাকে কোন ভাবেই অস্বীকার করতে পারবেন না আর তা কিনা সম্পূর্ন রূপে যুক্তি-যুক্ত যে কুরআন নাযিল হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে তাহলে বুঝা যাচ্ছে সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ এত সুশৃঙ্খল ভাবে বর্ণনা দিতে পারে না


*ত্বহা তে ( ২০:৭৭ )মহান আল্লাহ্ বলেন ‘আমি মূসা কাছে  মর্মে ওহী পাঠিয়ে ছিলাম তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের বেলায়ই  দেশ ছেড়ে চলে যাও তুমি ওদের জন্য  সমুদ্রের মধ্যে একটি শুষ্ক পথ (البحر يبسا ভেঙ্গে চলো পেছনে তোমাকে ধাওয়া করবে  আশংকা তুমি কখনও করো না  ’ । সমুদ্রকে তো আসলে শুষ্ক বুঝায় না  সুতরাং তা মূলত পৃথিবীর শুষ্ক ভূ-পরিমান বুঝায় 

(সংক্ষিপ্ত )
                       


সম্পাদনায় -
মোহাম্মদ মুদ্দাচ্ছির ইসলাম পাটওয়ারী
B.Sc in Environmental Science ( NSTU )
M.Sc in WRD (BUET) [On-going]

Comments

Popular posts from this blog

শনিবার ও ইহুদী জাতি ।

সূরা আল-হাজ্জ।

দুনিয়া ও আখেরাত শব্দ ।